You are currently viewing জবা গাছের শীতকালীন পরিচর্যা

জবা গাছের শীতকালীন পরিচর্যা

জবা ফুল(Chinese hibiscus/china rose) হল মালভেসি গোত্রের অন্তর্গত একটি চিরসবুজ,পুষ্পধারী গুল্ম যার উৎপত্তি পূর্ব এশিয়াতে। বৈজ্ঞানিক ক‍্যারলাস লিনেয়াস জবার নাম দেন Hibiscus-rosa-sinensis। লাতিন শব্দ “রোসা সিনেন্সিস” এর অর্থ হল ‘চীন দেশের গোলাপ’। যদিও জবার সঙ্গে গোলাপের সম্পর্ক নেই। ভারতীয় উপমহাদেশে জবা গাছ বিভিন্ন ভাষায় বিভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন বাংলায় জবা,তামিলে সেম্বারুথি, হিন্দিতে জবা, কুসুম, মালয়লমে সেম্পারাত্তি ইত‍্যাদি।

ফুলের গুরুত্ব

পূজোর ফুল হিসাবে জবাফুলের গুরুত্ব অনেক। বিভিন্ন পূজোতে এই ফুলের বিশেষ চাহিদা থাকে। শুধু তাই নয় এই ফুলের রোগপ্রতিরোধক ক্ষমতা অনেক। এই ফুলের নির্যাস থেকে বেশ কিছু আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরী হয়।

আজ এই পর্বে জবা গাছের শীতকালীন পরিচর্যা কি হবে সে বিষয়ে বিশদে আলোচনা করব।

আমরা মোটামুটি তিনধরণের জবা গাছ দেখতে পাই।

গ্রীষ্মকালীন জবা

এই সমস্ত জবা গাছের ফুল ফোটার সময় ফেব্রুয়ারী থেকে সেপ্টেম্বর অবধি। যে সব  গাছ এই সময় ফুল ফোটায়, একটু লক্ষ‍্য করলে দেখা যায় যে উক্ত সময়ের পর থেকে এই জবা গাছের ফুলের আকার,পাতার আকার ছোট হতে শুরু করে এবং গাছের বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়ে। এমনকি পোকার আক্রমণ ও লক্ষ‍্য করা যায়।

শীতকালীন জবা

এই জবা গাছের ফুল ফোটানোর সময় নভেম্বর মাস থেকে মে মাস পর্যন্ত। এই সব ফুলের আকার অনেক বড়ো হয় ও এইসব ফুলে রঙের বৈচিত্র‍্য লক্ষ‍্য করা যায়। সারা শীতকাল থেকে মে মাস অবধি প্রচুর ফুল দেয়। জুন মাস থেকে এর ফুল প্রায় বন্ধ হয়ে  যায়। তবে এই সময় এই গাছের পাতার আকারের কোন পরিবর্তন হয় না। কিন্তু গাছের বৃদ্ধি ব‍্যাহত হয়।

সারা বছরের জবা

এই জবা গাছ সারাবছর ই অল্পবিস্তর ফুল ফোটায়। যদিও এই গাছ গুলোকে গ্রীষ্মকালীন জবা বলা যায় না তবু এই গাছে ফুলের পরিমাণ গ্রীষ্মকালেই বেশি হতে দেখা যায় এবং শীতে গরমকালের তুলনায় কম হয় I

শীতকালীন পরিচর্যা

গাছ বাড়ী নিয়ে আসার দিন থেকে দু বছর অবধি এই তিন ধরণের জবা গাছেই প্রতি মাসে নিয়ম করে খাবার দিয়ে যেতে হবে, সেই সমস্ত গাছের ডরম‍্যান্সি পিরিয়ড চলাকালীনও। দু বছর বা দু বছরের বেশি বয়স হয়ে গেলে অর্থাৎ গাছ প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গেলে ওই সব গাছের ডরম‍্যান্সি পিরিয়ড অনুযায়ী খাবার বন্ধ করতে হবে। গতবছর বা এই বছর যারা গাছ বসিয়েছ তাদের সব গাছেই খাবার দেওয়া চালু রাখতে হবে। যাদের গাছের বয়স দু বছর হয়ে গেছে তাদের ডরম‍্যান্সি পিরিয়ড অনুযায়ী খাবার দেওয়া বন্ধ রাখতে হবে।

শীতকালীন জবা গাছের ডরম‍্যান্সি পিরিয়ড জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত। যে গাছের বয়স দু বছর হয়ে গেছে এই সময় সেই গাছের খাবার সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে। শুধু জল দিয়ে গাছ বাঁচিয়ে রাখতে হবে এবং প্রয়োজনমতো কীটনাশক স্প্রে করতে হবে।

গ্রীষ্মকালীন জবা গাছের ডরম‍্যান্সি পিরিয়ড হল পুজোর পর থেকে শুরু করে ফেব্রুয়ারীর প্রথম অবধি। এই সময় দু বছরের বেশি বয়সের গাছের ক্ষেত্রে ডরম‍্যান্সি পিরিয়ড অনুযায়ী খাবার বন্ধ রাখতে হবে।

সারা বছরের গাছের ক্ষেত্রে পুরো গরমকালে পরিমাণ অনুযায়ী খাবার দিতে হবে এবং শীতের দিকে খাবারের পরিমাণ আস্তে আস্তে কমিয়ে এনে ডিসেম্বর,জানুয়ারীতে খাবার একেবারে বন্ধ করে দিতে হবে (এটা শুধুমাত্র দু বছর ও তার থেকে বেশি বয়সের গাছের ক্ষেত্রে প্রযোজ‍্য) I

দু বছরের কম বয়সী গাছের খাবারের ব‍্যবস্হাপনা

দু চামচ সরিষার গুঁড়ো খোল বা বাদাম খোল, এক চা চামচ হাড় গুঁড়ো, দু চা চামচ সালফেট অফ পটাশ অথবা মিউরেট অফ পটাশ ভালো করে মিশিয়ে এর থেকে ছ ইঞ্চি টবের জন‍্য দু চা চামচ, আট ইঞ্চি টবের জন‍্য তিন চা চামচ এবং দশ ও বারো ইঞ্চি টবের জন‍্য চার চা চামচ করে দিতে হবে। সার দেওয়ার আগের দিন গাছের গোড়া ভিজিয়ে দিতে হবে।পরের দিন গাছের গোড়া হালকা খুশে সার দিয়ে আবার জল দিয়ে দিতে হবে। এছাড়া আমার কাছে একটা hibiscus special fertilizer পাওয়া যায়,যেটা ব‍্যবহার করলে আর কোনরকম খাবার দেওয়ার দরকার পড়বে না। যদি তোমরা hibiscus special fertilizer নিতে চাও তবে আমার হোয়াটসঅ‍্যাপ নম্বরে 8972774914 যোগাযোগ করার অনুরোধ রইল। এই সারটা দু বছর কমবয়সী গাছ গুলোতে প্রত‍্যেক মাসে একবার করে দিতে হবে এবং দু বছরের বেশি বয়সের গাছের ক্ষেত্রে ডরম‍্যান্সি পিরিয়ড ছাড়া মাস অনুযায়ী এই সার দিতে হবে। যারা এই special fertilizer দিতে চাও তাদের আর কোন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্স দেওয়ার দরকার হবে না কারণ এই সারের মধ‍্যে খুব ভালো মাইক্রোনিউট্রিয়েন্স আছে। যারা এই সার নেবে না তাদের অবশ‍্যই একটা মাইক্রোনিউট্রিয়েন্স ব‍্যবহার করতে হবে। যেকোন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্স তরল হলে এক লিটার জলে তিরিশ ফোঁটা এবং গুঁড়ো হলে এক লিটার জলে এক গ্রাম দিয়ে ভালো করে ঝাঁকিয়ে কুড়ি দিন অন্তর অন্তর শীতকালীন জবাগুলোতে স্প্রে করতে হবে। দু বছরের গাছ গুলোতে অল্প পরিমাণে স্প্রে করতে হবে।

বি:দ্র :– ঘরে বসে যদি তুমি গাছ  ও গাছের  চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পুষ্টিমৌল পেতে চাও, তাহলে 8972774914 হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করে তোমার পছন্দমত গাছ অর্ডার দিতে পারো I শুধুমাত্র ভারতীয়দের জন্যই প্রযোজ্য I

পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি

গরমকালের গাছগুলোর ডরম‍্যান্সি পিরিয়ডে যখন এই গাছগুলোর পাতা ও ফুল ছোট হয়ে যায় সেই সময় কাকা এক লিটার জলে এক মিলি দিয়ে  ভালো করে মিশিয়ে পাঁচদিন পর পর স্প্রে করতে হবে। শীতকালীন গাছ গুলোতে ও একই নিয়মে করতে হবে কিন্তু সেটা সকালবেলায় কুঁড়ি ছোট থাকার সময়। এর ফলে ফুল ফুটে গেলে কোন দাগ থাকবে না। এছাড়াও ডাইমেথয়েড 30% এই কম্পোজিসনের রোগর,রোগর প্লাস,টাফগর, এক লিটার জলে তিরিশ ফোঁটা দিয়ে ভালো করে ঝাঁকিয়ে স্প্রে করলেও ভালো ফল হয়। তবে কোন গাছের পাতা কুঁকড়ে গেলে কীটনাশক স্প্রে করার আগে সেই পাতা ফেলে দিয়ে কীটনাশক স্প্রে করতে হবে।

এই হল জবার শীতকালীন সম্পূর্ণ পরিচর্যা। এইভাবে অনুসরণ করলে সকলেই সারাবছর রোগবিহীন ও আকর্ষণীয় ফুল পেতে পারবে। সকলকে অনেক ধন‍্যবাদ।🙏🙏🙏🙏

Hortichulture Aarindam

আমি অরিন্দম, একজন গর্বিত ভারতীয় নাগরিক, প্রকৃতি প্রেমিক, ফটোগ্রাফার এবং ইউটিউবার। এটি আমার ব্লগ যেখানে আমি গাছ সংক্রান্ত আমার কাজ এবং বিশেষ বিশেষ গাছের পরিচর্যা পদ্ধতি শেয়ার করি।

Leave a Reply